1. admin@gangchiltv.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৮:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জের ইটনায় ০২(দুই) কেজি গাঁজাসহ ১জন গ্রেফতার। রামপালে পুলিশের অভিযানে নারী মাদক কারবারি আটক ধনবাড়ীতে বিশাল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আজ ঐতিহাসিক ৩ মার্চ — বাগেরহাট পতাকা উত্তোলন দিবস। কালিয়ায় মাদরাসা ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। লোহাগড়ায় পুলিশের হাতে ৮৫ পিচ ইয়াবাসহ তেলকাড়ার রাকিব গ্রেফতার। প্রাণ রক্ষাকারী জনকল্যানকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে রুপ নিয়েছে দাকোপের শরিফস্। ঠাকুরগাঁওয়ে ৫দিন ব্যাপী কারুশিল্প প্রশিক্ষণ উদ্বোধন কিশোরগঞ্জ ডিবি কর্তৃক ১২০ (একশত বিশ) পিস ইয়াবাসহ ০১ জন গ্রেফতার। লোহাগড়ায় শিশু নুসরাতকে শ্বাসরোধে হত্যা করলো সৎ মা আদালতে স্বীকারোক্তি।

মাটির নিচে পাওয়া অজ্ঞাত কঙ্কালের রহস্য উন্মোচন করলেন পিবিআই যশোর

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ১০৭ বার পঠিত

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:

যশোরের পুরাতনকসবা কাজীপাড়ার নিরিবিলি এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া প্লাস্টিকের ড্রাম ভর্তি অজ্ঞাত কঙ্কালটির অবশেষে পরিচয় মিলেছে। কঙ্কালটি খুলনার রাজীব হোসেন কাজীর (৩২)। তিনি দিঘলিয়ার চন্দোনি মহল গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। ডিএনএ থেকে শনাক্ত করা হয়েছে কঙ্কালটির। মঙ্গলবার (১৭ই জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেন পিবিআই যশোর।

হত্যাকান্ডের ঘটনা পরিস্কার হয়েছে। আটক হয়েছে খুনে জড়িত থাকা একজন। আটককৃতের নাম সালাম হোসেন (৫৫)। তিনি নড়াইল লোহাগড়ার মঙ্গলহাটা গ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে। পেশায় একজন রিকসা চালক। বর্তমানে যশোর শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়ার আবদার ড্রাইভারের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

৬ বছর আগে খুন করে লাশটি গুম করে সালামসহ অন্যনরা। লাশটির অস্তিত্ব নষ্ট করে দিতে পুরাতন কসবা নিরিবিলি পাড়ার বজলুর রহমানের পরিত্যাক্ত পুরাতন টয়লেটের রিং স্লাবের কুয়ার ভেতরে ফেলা হয়। পিবিআই যশোরের তদন্তে উঠে এসেছে এই তথ্য।

গত বছরের ৩০ মে দুপুরে কঙ্কালটি উদ্ধার হওয়ার পর থেকে ট্যক অব দ্যা যশোরাঞ্চল ছিল ওই ঘটনাটি। সর্বত্রই একই আলোচনা ছিল, কঙ্কালটি কোন হতভাগ্যের। কোন মায়ের বুক খালি করে এনে তাকে পুতে রাখা হয়েছিল ওখানে। এদিকে পুলিশের পরিস্কার ধারণা ছিল ৩ থেকে ৪ বছর আগের একটি হত্যাকান্ড হতে পারে এটি। ওইদিন দুপুর ১২ টার দিকে যশোর শহরের কাজীপাড়া নিরিবিলি এলাকার মালিক বজলুর রহমানের একটি জমিতে নির্মাণ কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। তারা ওই জমিতে পাইলিংয়ের কাজের সময় একটি পুরোনো প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পান। পরে ওই ড্রামের ভেতরে ও আশপাশে চুনের আবরণ দেখতে পান। পচা দূর্গন্ধও আসতে থাকে ড্রাম থেকে। এতে তাদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি তারা প্রথমে জমির মালিক বজলুর রহমানকে জানান। পরে জমি মালিক ও স্থানীয়রা দূর্গন্ধ ও ড্রামের বিষয়টি পুলিশকে জানালে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ড্রামখুলে মানুষের কঙ্কাল দেখতে পান। কঙ্কাল উদ্ধারের পর থেকেই এটি হত্যাকান্ডের আলামত বহণ করছে বলে পুলিশ দাবি করেন। অন্য কোথাও থেকে অজ্ঞাত কাউকে অপহরণ করে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়েছে। কোনো এক হতভাগ্যের কঙ্কাল এটি। কারো আপনজন, কোনো হতভাগ্য মায়ের সন্তান। দ্রুতই এ ব্যাপারে শক্তিশালী তদন্ত করে কঙ্কালটি কার এবং ঘটনায় কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে হবে বলে দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

এদিকে ঘটনাটি আমলে নিয়ে পিবিআই যশোর ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এ সময় তদন্ত টিম জানতে পারে দিঘলিয়ার রাজীব হোসেন কাজী তার চাচা হাসমতের বাসায় থেকে যশোরের পুরাতন কসবা আবু তালেব সড়কের সজিবুর রহমানের অফিস ও বাসায় কাজ করতেন। ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ রাত অনুমানিক ৮ টায় রাজীব তার বাবাকে ফোন করে তাদের খুলনার বাড়িতে আসছেন বলে জানান। কিন্তু রাজীব খুলনায় তাদের বাড়িতে ওইদিন যাননি। রাজীব বাড়িতে না গেলে বাবা ফারুক হোসেন ছেলে রাজীবের মোবাইল ফোন বন্ধ পান। এরপর বাবা হাসমতের সাথে যোগাযোগ করেন। হাসমত জানান, ২৯ মার্চ থেকে রাজীবকে তারাও পাচ্ছেন না। কয়েকদিন পর রাজীবের মা মাবিয়া বেগম ছেলের খোঁজে যশোরে আসেন। রাজীবের মা মাবিয়া বেগম ও চাচা হাসমত অফিস মালিক সজীবের বাসায় গিয়ে রাজিবের খোঁজ করলে সজীব জানান, রাজীব কোথায় গেছেন তিনি জানেন না। তিনি আরও বলেন, তারা যেন মামলা মোকদ্দমা করে ছেলেকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন। রাজীবের মা ও চাচা সজীবের অফিস এবং বাড়িতে ও সম্ভাব্য সকল জায়গায় খুঁজাখুঁজি করে কোন সন্ধান না পেয়ে নিরুপায় হয়ে পড়েন।

এরপর পিবিআই যশোর এ তথ্য পান, গত বছরের ৩০ মে পুরাতন কসবা নিরিবিলি পাড়ার বজলুর রহমানের যে পরিত্যাক্ত পুরাতন টয়লেটে ড্রামের মধ্যে কঙ্কাল পাওয়া যায় সেই জায়গাটির মূলত আগের মালিক ছিলেন রাজীবের অফিস মালিক শেখ সজীবুর রহমানের। রাজীব নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন পর সজীব তার অফিস ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। রাজীবের বাবা ফারুক হোসেন তার ভাই হাসমত ওই তথ্য জেনে যশোরে আসেন। পিবিআইয়ের ছায়া তদন্তে ফারুক হোসেন পিবিআই যশোর অফিসে এসে পুলিশ সুপারের কাছে তার ছেলেকে শনাক্ত করণের জন্য অনুরোধ করেন। এ সংক্রান্তে পিবিআই যশোর কার্যালয়ে একটি জিডি করা হয়। জিডি নাম্বার ১৪৬। জিডির সূত্র ধরে পিবিআই যশোরের এসআই জিয়াউর রহমান নিহত রাজীবের বাবা ফারুক হোসেন এবং মা মাবিয়া বেগমকে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ গ্রহণ করে কঙ্কালের সাথে তাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য নির্দেশনা পান। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় ড্রামের মধ্যে পাওয়া মানবদেহের কঙ্কালের সাথে ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রী মাবিয়ার ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। কাজেই পরিস্কার হয় ড্রামের ভেতরে পাওয়া কঙ্কাল তাদের ছেলের। আর এটা হত্যকান্ড বলেও পরিস্কার হয়। এরপর ১৭ জানুয়ারি যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যার নাম্বার ৩৪।

পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন পিপিএম, এর নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক শামীম মুসা, এসআই স্নেহাশীস দাশ, এসআই জিয়াউর রহমান, এসআই ডিএম নূর জামালসহ একটি চৌকস দল তদন্ত ও আটক অভিযান শুরু করেন। ১৬ জানুয়ারি খুনে জড়িত তথ্যে সালাম হোসেনকে (৫৫) আটক করেন।

পিবিআই পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে সালাম জানিয়েছে, অন্য অসামিরা রাজীবকে হত্যা করেন। আর রিকসা চালক আসলামের সহযোগিতায় মৃতদেহ গোপন করার জন্য ড্রামে ভরে তার ব্যবহৃত রিক্সায় করে পুরাতন কসবা নিরিবিলি পাড়া শেখ সজিবুর রহমানের অফিসের টয়লেটের কুয়ার মধ্যে ফেলে দেয়। আসামি সালামকে ১৭ জানুয়ারি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালালের আদালতে সোপর্দ করা হয়। সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। মৃতদেহ বহনের কাজে ব্যবহৃত রিক্সা জব্দ করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িত অন্য আসামিদের আটক অভিযানসহ মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পিবিআই যশোর বলেন অচিরেই এই খুনে জড়িত সকলকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ৮:১০)
  • ৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৪শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি
  • ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ ©  গাঙচিল টিভি
Theme Customized By Shakil IT Park